[email protected] রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২২ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, এপ্রিলেই আসছে বড় পরিমাণ তেলের চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৩৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

চলতি এপ্রিল মাসেই বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছাবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।


সরকারি সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সাময়িক যে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসছে।


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতেই প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। পুরো মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল দেশে আসার সময়সূচিও নির্ধারিত হয়েছে।


বর্তমান মজুতের সঙ্গে নতুন আমদানি যুক্ত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বড় পরিমাণ ডিজেল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আনার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।


অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দেশীয় শোধনাগার ও আমদানিকৃত জ্বালানি দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কিছু অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এতে করে এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচল সহজ হয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হওয়ার পথে।


এদিকে আটকে থাকা অপরিশোধিত তেল দেশে আনার জন্যও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস হিসেবে সৌদি আরবের বন্দর থেকে অতিরিক্ত তেল কেনা হয়েছে, যা আগামী মাসে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড নতুন অপরিশোধিত তেল পেলে সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সরকার এখন জ্বালানি আমদানিতে বহুমুখী কৌশল নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাশিয়া থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।


জানা গেছে, জুন পর্যন্ত চাহিদা বিবেচনায় আগাম জ্বালানি ক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদিও গত মাসে কয়েকটি জাহাজ সময়মতো না আসায় মজুতে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তবে নতুন চালান এলে তা পূরণ হয়ে যাবে।
এপ্রিল মাসে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বিপিসি। স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয়ে চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও দ্রুত আমদানির ফলে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা কমছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অগ্রিম মজুত গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর