[email protected] সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৫ চৈত্র ১৪৩২

বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮৩০ কোটি ডলার: জিএফআই রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬ ৭:৪১ পিএম

মোট পাচারের পরিমাণ: ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।


​পাচারের প্রধান কৌশল: মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণা করে (ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং) এই অর্থ সরানো হয়েছে।


​ব্যবহৃত পদ্ধতি: আমদানিতে পণ্যের দাম বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে দাম কম দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।


​পাচারের উদ্দেশ্য: প্রধানত কর ফাঁকি দেওয়া, লভ্যাংশ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং পুঁজি পাচারের জন্য এই অবৈধ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।


​অর্থনৈতিক প্রভাব: বড় অঙ্কের এই অর্থ পাচারের ফলে একদিকে সরকার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপরও তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।


​বাংলাদেশের অবস্থান: বাণিজ্য মূল্যের এই বিশাল অমিলের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টির তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।


​পাচারের গন্তব্য: পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি (৩৩ বিলিয়ন) ডলারের কারসাজি হয়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময়।


​আঞ্চলিক তুলনা: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের তুলনায় পাচারের পরিমাণ কম হলেও (ভারত থেকে ১.০৬ ট্রিলিয়ন ডলার), বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।


​প্রতিবেদনের সতর্কতা: রপ্তানিমুখী ও আমদানিনির্ভর খাতে পাচারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জিএফআই জানিয়েছে, গত এক দশকে এশিয়ায় এ ধরনের অনিয়ম কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর