পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে মুরগি, সবজি এবং ইফতার সামগ্রীর দামে রীতিমতো 'আগুন' লেগেছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র: এক নজরে
মুরগি ও মাংস: মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ২২০-২৩০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। গরুর মাংসের দামও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বাজার: আলু ও পেঁপে ছাড়া ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। ইফতারের অতিপ্রয়োজনীয় লেবু প্রতি পিস ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ১২০-১৩০ টাকা এবং শসা ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা।
ডাল ও তেল: মসুর ও এঙ্কর ডালের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বেড়ে ১৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
চাল ও পেঁয়াজ: পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম সামান্য কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। পেঁয়াজ ও ছোলার দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
শুল্ক কমলেও চড়া খেজুরের বাজার
সরকার ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করলেও বাজারে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
শুল্ক কমার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না; বরং মানভেদে খেজুরের দাম আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। সাধারণ মানের দাবাস বা বরই খেজুর এখন ৫০০-৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর উন্নত মানের মরিয়ম বা মেডজুল খেজুরের দাম ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রমজানের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করা হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: