দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) কাঠামোয় পরিবর্তন এনেছে সরকার।
এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দামে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এতদিন স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে যে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম করও তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে যে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন হতো, তার ওপর আর আলাদা ভ্যাট কার্যকর থাকছে না।
জানা গেছে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন দুটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে বহুল ব্যবহৃত এ জ্বালানিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য ধরে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থায় এলপিজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের ওপর মোট মূসকভার আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভ্যাট হ্রাসের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, কর কাঠামো সহজ হলে বিপণন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব বাজারমূল্যে প্রতিফলিত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন ভ্যাট কাঠামো কার্যকর হলে এলপিজির সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: