পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের সময় দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে এবং দক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত পাচার হওয়া অর্থের নির্দিষ্ট অঙ্ক চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার যদি এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে অর্থ ফেরত আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব সংস্কারমূলক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো যেন পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়—এটাই তার প্রত্যাশা। তিনি আরও জানান, নিজের সম্পদের হিসাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কোনো মামলা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে না। নিজের কার্যকাল মূল্যায়ন করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নিজেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ দেবেন। তার ভাষায়, আরও অনেক কাজ করার সুযোগ থাকলেও সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে এমন একটি ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে, যেখান থেকে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতের সরকার চাইলে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসআর
মন্তব্য করুন: