চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার দুবাইভিত্তিক
কোম্পানি 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ (রোববার) সকাল ৮টা থেকে ফের লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'। এই আন্দোলনের ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
অচলাবস্থার চিত্র
কার্যক্রম বন্ধ: সকাল থেকেই বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল এবং প্রশাসনিক ভবনে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।
যানবাহন চলাচল: বন্দরের ভেতরে ট্রেলার বা পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও থেমে আছে।
বহির্নোঙর: এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে, যা আগে শিথিল ছিল।
নিরাপত্তা: বন্দর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের ৪ দফা দাবি
১. ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
২. চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
৪. শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা হয়রানি করা যাবে না।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও অভিযোগ
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে দমনমূলক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংগ্রাম পরিষদের দুই নেতা—শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে বলে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সাথে আলোচনার পর দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়া এবং আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজ থেকে পুনরায় ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: