[email protected] বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৪১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি-এর শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ২০২৬ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী।

এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কামরুজ্জামান খান, যিনি স্বাগত বক্তব্যও প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল আহাদ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড–১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এস. এম. ইকবাল হোসাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম।


এছাড়া সম্মেলনে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল ও সুভাষ চন্দ্র দাস, একাধিক মহাব্যবস্থাপক, শাখা ও উপশাখা প্রধানসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসিক ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রমে উন্নতি লক্ষ করা গেছে।

তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারানো সুনাম পুনরুদ্ধারে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকসেবা সহজ ও মানসম্মত করার পাশাপাশি লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান চেয়ারম্যান।

এ সময় তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি স্বল্পসুদে আমানত সংগ্রহ বাড়ানো এবং কমিশনভিত্তিক আয়সহ নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংকের সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ উল্লেখ করে বেসিক ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ভালো গ্রাহক নির্বাচন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।


মো. আব্দুল আহাদ ব্যাংকের আয় বাড়ানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এস. এম. ইকবাল হোসাইন রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।


সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কামরুজ্জামান খান সকল শাখা ও উপশাখা প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপকগণকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।


উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংক ধাপে ধাপে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর