রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় নীড়, রিফাত, নাঈম, আপন ও সাজুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি মাদক ও ইয়াবা সিন্ডিকেটের কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে, যার প্রভাবে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নীড়ের বাসা (৫২০ আশকোনা, ৮ নম্বর মসজিদ লেন) মূলত এই মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আশকোনার বিভিন্ন অলিগলিতে রাতের বেলা প্রকাশ্যেই ইয়াবা কেনাবেচা চলে। মাদক সেবনের পর অনেক তরুণ চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পথচারী ও কর্মজীবী মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জানা গেছে, ফানির বস্তিতে রিফাত ও সাজুর বাসা। তারা প্রায়ই এলাকার স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিদিন দুপুর, বিকেল এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত তাদের আড্ডা চলতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর দাবি, ভয়ে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
আশকোনার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, গত এক সপ্তাহে অন্তত ছয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের মতে, আদমের ট্রেনিং সেন্টারের সামনে, নীড়ের বাসার ছাদে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিপুলের বাসার পেছনের মাঠে, চৌধুরী বাড়ির গলিতে এবং খালেকের বাড়ির বিপরীতে একটি মাঠে নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও আড্ডার আসর বসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, এই চক্র এলাকার উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তারা কিশোর শিক্ষার্থীদের হাতে সিগারেট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক তুলে দিচ্ছে। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় ইভটিজিং করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে।
অজ্ঞাত কারণে মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, নীড়, আপন ও নিশাতের নেতৃত্বাধীন এই চক্র দ্রুত ভেঙে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ওসি প্রতিদিনের বাংলাকে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।
এছাড়াও আমরা ঔই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসআর
মন্তব্য করুন: