চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) বারইয়ারহাট পৌর বাজারে পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন ও সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার মিরসরাই উপজেলা, মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের সমর্থিত পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
২৫ মার্চ কমিটি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করে তারা। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘাতের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন উপজেলা পরিষদ চত্বর ও তার আশপাশের ৫০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও সকাল থেকে বিএনপির নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মিছিল বের করেন।
বেলা ১২টার দিকে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে প্রবেশের সময় নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঈন উদ্দিন লিটনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের মধ্যে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ সময় আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. জাবেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন বলেন, "সকাল থেকেই দিদারুল আলম মিয়াজীর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ১০-১৫ জন আহত হয়েছে এবং পরে তারা আমাদের বাড়িতেও হামলা চালায়।"
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, "স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।"
জোরারগঞ্জ থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, "বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।"
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল, কিন্তু বিএনপির একটি গ্রুপ তা ভেঙে মিছিল বের করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মিরসরাই উপজেলায় বিএনপির দীর্ঘদিনের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও বহু হতাহতের ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: