[email protected] শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৫ ৫:৪০ পিএম

ফাইল  ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত মামুনের টিনশেড বাড়িতে ফতুল্লার তল্লা বড় মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় ভোরে সেহরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন – গৃহকর্তা হারুন অর রশিদ (৬০), তাঁর স্ত্রী রুনা আক্তার (৪০) ও ১৭ বছর বয়সী মিম আক্তার – গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। আহতদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

হারুন অর রশিদ জানান, ভোরে সেহরির জন্য রান্নাঘরে খাবার গরম করার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘুম থেকে উঠেই যখন তাঁর স্ত্রী রান্নাঘরে গেছেন, তখনই চুলায় জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সাথেই রান্নাঘরের পরিবেশে আগুন লাগতে শুরু করে। তিনি বলেন, তৎক্ষণাৎ নিজের এবং মিমের সাহায্যে চেষ্টা করলেও হাত পুড়ে যায়। আশপাশের সহবাসীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকায় অবস্থিত বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে।

হারুন অর রশিদ পরবর্তীতে বলেন, তাঁর স্ত্রী টিনের ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করতেন। মনে করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজের ফলে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল এবং অটো গ্যাস চুলা চালু করতেই জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিনও বলেন, আজ ভোরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত চালু থাকা সত্ত্বেও এখনও স্পষ্টভাবে বলা যায়নি যে, পুরো ঘটনার মূল কারণ লিকেজ ছিল কিনা।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, রুনা আক্তারের শরীরের ৬২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অপর দুই জনের ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ করে দগ্ধ পাওয়ার কথা, যার জন্য তাঁদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর