কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ধারাবাহিকভাবে মৃত ডলফিন ও সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার ঘটনায় উপকূলীয় পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে সৈকত এলাকায় তিনটি মৃত ইরাবতী ডলফিন এবং তিনটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ভেসে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। পরে স্থানীয়রা সেটি দেখতে পান এবং সংশ্লিষ্টদের খবর দেন। জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটি তীরে এসে পৌঁছায় বলে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডলফিনটির শরীরে চামড়া উঠে যাওয়া, পেট ফেটে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উপরা’-এর সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন হতে পারে, যা সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অগভীর জল এবং বড় নদীতে দেখা যায়। বিপন্ন এই প্রজাতি সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এ ধরনের ঘটনা উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির স্পষ্ট সংকেত। তার মতে, ডলফিনের মৃত্যু কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, বারবার ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অনিয়মিত চলাচল এর পেছনে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরবর্তীতে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেন।
এসআর