নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অভাবের তাড়নায় নিজের নবজাতক কন্যাসন্তানকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের বক্তারকান্দি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর
ঘটনাটি ঘটে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেছে এবং বর্তমানে সে এক দম্পতির কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
রংপুর থেকে আসা আব্দুল হক একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা এই দম্পতির ঘরে গত বুধবার রাতে চতুর্থ সন্তান (কন্যা) জন্ম নেয়। অভাবের সংসারে নতুন এই শিশুকে 'বোঝা' মনে করে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাবা-মা।
সকাল ৮টার দিকে নবজাতকটিকে নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপের আড়ালে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে তারা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং পাষণ্ড বাবা-মাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনা জানাজানির পর বন্দর থানা পুলিশ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের মধ্যস্থতায় শিশুটির দায়িত্ব নেন স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ ওরফে আপন ও তার স্ত্রী।
মানবিক দৃষ্টান্ত: আপন দম্পতির এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কুড়িয়ে পাওয়া এই নবজাতকটিকে তারা নিজের সন্তানের মর্যাদা দিয়েছেন।
মাতৃত্বের বন্ধন: শিশুটি এখন আপনের স্ত্রীর যত্নে রয়েছে এবং তাদের এক বছর বয়সী সন্তানের সঙ্গেই মায়ের দুধ পান করছে।
সুস্থতা: দত্তক নেওয়া দম্পতি জানিয়েছেন, শিশুটি এখন পুরোপুরি সুস্থ ও নিরাপদে আছে। তারা একে কোনো অভাব পূরণ নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব থেকে বড় করতে চান।
বন্দর থানা পুলিশ আব্দুল হক দম্পতিকে আটক করলেও পরবর্তীতে চরম দারিদ্র্য বিবেচনা করে এবং স্থানীয়দের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। বাড়ির মালিক মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়ি রংপুরে চলে গেছেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা শেষে সুস্থতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মানবিক কারণে এবং শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: