আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নে নির্বাচনী আলোচনা ও তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।
এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আবু সাঈদ নুর আলম (বাবু)।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার পাশাপাশি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার এসব কার্যক্রমে ইউনিয়নের তরুণ, কৃষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরছেন।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু সাঈদ নুর আলম (বাবু) বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। নির্বাচিত হলে বড়গাঁও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
তিনি বলেন, “আমি চাই বড়গাঁও ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত একটি আদর্শ ইউনিয়নে রূপ দিতে। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের সেবার কেন্দ্র, যেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষকদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন জোরদার করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, আবু সাঈদ নুর আলম (বাবু) একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের কারণে তিনি অনেকের আস্থা অর্জন করেছেন।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব হিসেবে তার প্রার্থিতা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে। উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তরুণ নেতৃত্ব এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে আবু সাঈদ নুর আলমের প্রার্থিতা বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে এবং ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ভাষ্য, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা ও মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে আসন্ন নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয় ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। ১৯৯২ সালে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বর্তমান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপির উপস্থিতিতে বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ওই পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় পদটি ছেড়ে দেন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সদর উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বড়গাঁও ইউনিয়নে ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আবু সাঈদ নুর আলম (বাবু)-এর গণসংযোগ ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: