গাইবান্ধা জেলা শহরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম হওয়ায় পেট্রোল, অকটেন ও
ডিজেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরের একটি ফিলিং স্টেশন গত দুদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং বাকিগুলোতে তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের হাসনা ফিলিং স্টেশনটি জ্বালানি না থাকায় ১১ মার্চ থেকে তালাবদ্ধ। শহরের প্রধান পাম্প এস এ কাদির এন্ড সন্স-এ পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় শুধু একটি মেশিন দিয়ে সীমিত আকারে অকটেন দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। রহমান ফিলিং স্টেশনেও ডিজেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ট্রাক ও বাস চালকরা।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলা শহরে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানির চাহিদা রয়েছে, মিলছে তার চেয়ে অনেক কম। ডিলাররা অগ্রিম টাকা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল, দূরপাল্লার বাসে সর্বোচ্চ ২২০ লিটার ডিজেল এবং প্রাইভেটকারে ১০ লিটার অকটেন বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই সীমিত সরবরাহের কারণে পাম্প কর্মচারীদের সঙ্গে গ্রাহকদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তেল না পেয়ে অনেক চালক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, যার ফলে জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: