[email protected] শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন একই পরিবারের ৯ সদস্যের, শোকে স্তব্ধ মোংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬ ৫:০০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা-এ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত একই পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা সরকারি কবরস্থান-এ তাদের দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।


দাফন শেষ হলেও মোংলা পৌরসভা-র শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।


স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের বড় একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী এবং ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম।

এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল ও তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরামও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখ।


অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকেও কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি কয়রা উপজেলা-র নকশা গ্রামে।


দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আশরাফুল আলম জনি। তিনি বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই তার পরিবারের বড় অংশ হারিয়ে গেছে এবং এখন তিনি কীভাবে জীবন চালাবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ত একটি সড়ক হলেও এখনো এটি চার লেনে উন্নীত হয়নি। সরু রাস্তার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তাদের। দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মোংলার দিকে ফিরছিল। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর