ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সততার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন স্থানীয় মুদি দোকানি হানিফ মিয়া (৪৭)।
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি স্বর্ণের কানের দুল প্রায় দুই মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
জানা যায়, একদিন পথ দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ রাস্তায় একটি চকচকে গহনা দেখতে পান হানিফ মিয়া।
কাছে গিয়ে তুলে দেখেন এটি স্বর্ণের কানের দুল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালেও তখন কেউ এর মালিক সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এরপর দুলটি নিজের কাছে রেখে বিভিন্নভাবে মালিকের খোঁজ করতে থাকেন তিনি।
দীর্ঘ সময়েও মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিক রুমন হায়দার ও আশরাফুল ইসলাম মারুফের সহযোগিতা নেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে অবশেষে সামনে আসে প্রকৃত মালিকের পরিবার।
পরে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দুলটি তার মালিকের হাতে তুলে দেন হানিফ মিয়া।
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাঠামারা গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তার এই দুলটি হারিয়ে ফেলেছিল।
পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে একসময় আশা ছেড়ে দেন। হঠাৎ করে দুল ফিরে পেয়ে তারা বিস্মিত ও আনন্দিত হন।
সুমির মা হনুফা আক্তার জানান, হারানো দুলটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, “এত দামি জিনিস কুড়িয়ে পেয়ে কেউ যে ফেরত দেবে, তা ভাবিনি। হানিফ ভাইয়ের মতো মানুষ আছেন বলেই সমাজে এখনো মানবিকতা ও বিশ্বাস টিকে আছে।
এ বিষয়ে হানিফ মিয়া বলেন, অন্যের জিনিস নিজের কাছে রেখে লাভ নেই।
লোভ করলে হয়তো কিছু টাকা পেতাম, কিন্তু আল্লাহ চাইলে তার চেয়েও বেশি দিতে পারেন—এই বিশ্বাস থেকেই মালিককে খুঁজেছি,” বলেন তিনি।
গহনার মালিকের কাছে তা পৌঁছে দিতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
সাংবাদিক রুমন হায়দার ও আশরাফুল ইসলাম মারুফ বলেন, সমাজের মানুষের উপকারে আসাই সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য।
এই ঘটনার মাধ্যমে একজন সৎ মানুষের উদাহরণ সামনে এসেছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: