ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশনায় বিকেলে ৫ নম্বর বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপি তিনলাখপীর গরুর বাজার এলাকায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস।
তবে অনুষ্ঠানের ব্যানারে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের নাম না থাকা এবং তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় অসন্তোষ।
ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভুইয়া দীপু। তিনি বক্তব্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে কিছু নেতাকর্মীর ভূমিকা এবং সংসদ সদস্য ঘোষিত মাদক ও ড্রেজারবিরোধী অভিযানের বিষয়ে সমালোচনা করেন।
এর কিছুক্ষণ পর শরীফুল হক স্বপন তার সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে ব্যানারে নাম না থাকা ও স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে আপত্তি তোলেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় চেয়ার ও পানির বোতল ছোড়াছুড়ি এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ইফতার মাহফিল ভেঙে যায়। উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠান হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে যুবদল নেতা মাসুদুল হক ভুইয়া দীপু দাবি করেন, ইফতার মাহফিলে আলোচনা চলাকালে শরীফুল হক স্বপন ও তার সমর্থকেরা এসে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যানারে নাম না থাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: