[email protected] রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

উত্তেজনার আগেই হরমুজ পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে ১৫ জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬ ৯:৩৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে Strait of Hormuz ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার আগেই বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার আগেই জাহাজগুলো প্রণালি অতিক্রম করায় বড় ধরনের সরবরাহ সংকট আপাতত এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Port of Chittagong–এর তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টি জাহাজে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার।

সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন পণ্য বহন করছে এসব জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও এলএনজি সরবরাহের একটি বড় অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ে।


বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। Iraq, Iran, Qatar, Kuwait, Bahrain, United Arab Emirates এবং Saudi Arabia—এই সাতটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট এটি।

পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে Gulf of Oman, Arabian Sea, Indian Ocean ও Bay of Bengal হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়।


বন্দর সূত্র জানায়, কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে এসেছে। এছাড়া ‘সেভান’ নামের একটি এলপিজিবাহী জাহাজ আগামী রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একইভাবে ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ আগামী সপ্তাহের মধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। চারটি জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

এসব জাহাজ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর কয়েক দিন আগেই যাত্রা শুরু করেছিল।
এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেটি যাত্রা শুরু করবে।


সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার খোলাবাজার থেকেও অতিরিক্ত দামে দুটি এলএনজি জাহাজ ক্রয় করেছে, যদিও সেগুলো এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।
এদিকে এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের জাহাজটি ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ২২ হাজার ১৭২ টন গ্যাস নিয়ে আসছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। দুটি জাহাজে মোট প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে, যা Meghna Group of Industries–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছেছে।
সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল—ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর—নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও কয়েকটি জাহাজ এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ওই অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বড় অংশই জ্বালানি খাতের। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজ আগমন এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর