ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুল মমিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কর্মচারীর হাতে বিভাগীয় প্রধান হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
পবিত্র রমজান মাসে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বদলি-সংক্রান্ত অসন্তোষ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মানসিক সক্ষমতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলার মানসিকতা, মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা এবং মাদকাসক্তির বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।
সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড দেশের শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা বিভিন্ন পদে প্রবেশ করছে, যার ফলে পেশাগত দায়িত্ববোধের অভাব দেখা দিচ্ছে এবং এমন ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষাঙ্গনের সংস্কার। কিন্তু সেই সংস্কার এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বারবার সংকট তৈরি হচ্ছে।
তাই দ্রুত শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, আজ একজন শিক্ষক হত্যার শিকার হয়েছেন, কাল হয়তো কর্মকর্তা বা কর্মচারী, এমনকি শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এ পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না।
আমরা সবাই চাই নিরাপদে কাজ করে ঘরে ফিরতে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ থাকে না।
তিনি আরও বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা চার সন্তান রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। এটি শুধু একজন শিক্ষকের মৃত্যু নয়, বরং দেশের শিক্ষাঙ্গনের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার কার্যালয়ে একই বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাত করেন। পরে লিখিত বক্তব্যে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: