[email protected] বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজস্বের আড়ালে লাইসেন্স বাণিজ্য রেলের স্টেট অফিসার মনজুরের

তোছাদ্দেকুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬ ১:২৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

লালমনিরহাটে রেলের জমি থেকে রাজস্ব আদায় ও লাইসেন্স নবায়নের নামে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে পরে ‘সমঝোতার’ নামে অর্থ আদায় করেন, যার বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ৮৪টি স্টেশন এলাকা লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের অধীন।

এসব স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানপাটকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযানের কথা বলে তালাবদ্ধ করা হয়।

পরে অফিসে ডেকে নিয়ে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।


নগদ লেনদেন ও চালান বৈষম্যের অভিযোগ- 
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজস্ব বা লাইসেন্স ফি আদায়ের ক্ষেত্রে সরাসরি নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

বিধি অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে লিজ বা লাইসেন্স অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করে সরকারি পাওনা আদায়ের কথা। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নগদ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।


হাতীবান্ধা উপজেলার দুই ব্যবসায়ী—রনিউল ইসলাম ও ফজলে রহমান—অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১ লাখ ২৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও ব্যাংকে জমা দেখানো হয়েছে অনেক কম অর্থ।

তারা দাবি করেন, ছয়টি সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয় ৫৩ হাজার ও ৩৬ হাজার টাকা। বাকি অর্থের কোনো হিসাব বা সরকারি রশিদ তারা পাননি। এমনকি যে লাইসেন্সের কপি দেওয়া হয়েছে, তা রেলওয়ের এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের এন্ট্রির প্রিন্ট কপি মাত্র বলে অভিযোগ।


নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ- 
রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো জমি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লিজ বা লাইসেন্স দিতে হলে আগে মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এসব নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন কিংবা জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত টাকার দ্বিগুণ বা তিনগুণ অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছেদ ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।
নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষি লাইসেন্সধারী কেউ রেলভূমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে লাইসেন্স বাতিল, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্রতি বর্গফুটে তিনগুণ জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিধানকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।


সহকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
এই প্রক্রিয়ায় অফিসের এক অফিস সহকারী ও এক ফিল্ড কানুনগোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেন প্রতিদিনের বাংলাকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর