সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা এলাকায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন—আব্দুস সালাম (৬০) ও ইসমাইল হোসেন (৭০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে উত্তেজনা-
পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, গোয়ালপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ বিঘা আয়তনের একটি খাস পুকুর নিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
একদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী, অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকের মধ্যে পুকুরের ইজারা ও দখল নিয়ে মতবিরোধ ছিল।
এর আগে পুকুরটি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। তবে গত বছর নতুন করে ইজারা নেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত-
সোমবার সকালে এক পক্ষ পুকুরে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে অপর পক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালাম ও ইসমাইল হোসেন মারা যান।
অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্য-
উপজেলা বিএনপি নেতাদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তাদের অভিযোগ, যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে অন্তত একজনকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা হাসপাতালে আনার আগেই সংকটাপন্ন ছিল এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, খাস পুকুরের দখল ও ইজারা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট পুকুরটি খাস সম্পত্তি কি না এবং ইজারা প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না—তা তদন্ত করে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
আগেও ঘটেছিল প্রাণহানি-স্থানীয়রা জানান, একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। খাস সম্পত্তি নিয়ে বারবার সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: