কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে আফরোজা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে রোগীর স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় কর্মবিরতিতে যান চিকিৎসক ও নার্সদের একটি অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে। এ নিয়ে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে কর্তব্যরত নার্সদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।
নিহতের স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগমের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বিলম্ব হয়।
তাদের অভিযোগ, দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করায় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রতিবাদ জানাতে গেলে একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে কয়েকজন স্টাফ রোগীর এক আত্মীয়কে আলাদা কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক শুভ। তিনি বলেন, “ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা নিয়ম ভেঙে দ্রুত চিকিৎসা শুরুর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আমরা কাউকে মারধর করিনি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঘটনায় উভয় পক্ষেরই অসহযোগিতামূলক আচরণ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
ঘটনার পর হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: