ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর উদ্ধার হওয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার এক শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত নুরুল্লাহ শাওন (২৬) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসিন্দা এবং আনন্দ মোহন কলেজ-এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাওন তার রুমমেট মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে বেড়াতে যান।
সেখানে একদল কিশোরের মুখোমুখি হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তাদের ওপর হামলা করা হয়। রিয়াদ সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নদী ও আশপাশ এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। পরদিন শাওনের মা নাহিদা আক্তার (সাহিদা বেগম) সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানা-এ মামলা করেন।
দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।
২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি ও কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।
২১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা সদর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকা থেকে দুজনকে আটক করা হয়। একই দিনে কোতোয়ালী থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এজাহারভুক্ত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এসআর
মন্তব্য করুন: