ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনেই বিজয় অর্জন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা।
ভোট গণনা শেষে রাতেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)-
এ আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (খেজুর গাছ প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী (লাঙল) ১২ হাজার ২৭৬ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রার্থী (গাভী) ৪ হাজার ৪৭৭ ভোট, জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী (বাইসাইকেল) ৪ হাজার ৫০১ ভোট পান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) ১ হাজার ৮৭১ ভোটসহ অন্যান্য প্রার্থীরা স্বল্পসংখ্যক ভোট অর্জন করেন।
মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ২৬৭ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৯ জন। বাতিল ভোট ছিল ৬ হাজার ২০৯টি। ভোটের হার ৬২.১২ শতাংশ।
নীলফামারী-২-
এ আসনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন জামায়াত মনোনীত অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (ধানের শীষ) পান ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৭ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৪টি, যার মধ্যে ৪ হাজার ৪৩৫টি বাতিল। ভোটের হার ৭৫.২৭ শতাংশ।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) ৩ হাজার ২৬০ ভোট এবং খেলাফত মজলিস (দেওয়াল ঘড়ি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সীমিত ভোট পান।
নীলফামারী-৩-
১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ আলী (ধানের শীষ) পান ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৬ জন। ভোট দেন ২ লাখ ৭ হাজার ৬৮২ জন। বাতিল ভোট ছিল ৩ হাজার ৮০৮টি। ভোটের হার ৭০.৫৩ শতাংশ।
জাতীয় পার্টি (লাঙল) ৩ হাজার ৯৯১ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) ৯৯০ ভোট পায়।
নীলফামারী-৪-
১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ) পান ৮২ হাজার ৮৬ ভোট।
এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী (লাঙল) উল্লেখযোগ্য ৬৭ হাজার ৫৫৭ ভোট পান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতীকে কয়েক হাজার ভোট অর্জন করেন।
মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৫ জন। ভোট পড়ে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৫৪টি। বাতিল ভোট ৭ হাজার ৫৭টি। ভোটের হার ৬৫.৭৯ শতাংশ।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ে জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: