কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নির্বাচনের আগে অর্থ বিতরণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা প্রায় ১১টার দিকে সালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নিয়ামতকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর দাবি, সালিয়াকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান হেলালী একটি প্রাইভেটকারে করে এলাকায় এসে কিছু ভোটারের মধ্যে গোপনে টাকা বিতরণের চেষ্টা করছিলেন।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে দুই বান্ডিল নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকা।
হাবিবুর রহমান হেলালী উপজেলার ধামঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং সুন্দর আলীর ছেলে।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্ট প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয় এবং চালকসহ দুজনকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিষয়টি বিচারিক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রার্থী ইউছুফ সোহেলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে আটক হাবিবুর রহমান হেলালী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা ছিল না। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা দলীয় এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু অর্থ ছিল। তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতে গাড়িতে অতিরিক্ত টাকা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস বলেন, হাবিবুর রহমানকে ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি দলীয় এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যাচ্ছিলেন।
বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে আটক করে গাড়িতে টাকা রেখে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থী পক্ষ বিভিন্ন এলাকায় টাকা বিতরণ করে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। স্থানীয়রা হাতেনাতে একজনকে আটক করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: