লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে রাতে স্থানীয় হাসপাতালে ছুটে যান সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষে একদল মহিলা কর্মী ওই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রচারণার একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন এবং গালমন্দ করেন।
খবর পেয়ে বশিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাইন উদ্দিন ঘটনাস্থলে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তর্কের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের পুরুষ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে জামায়াতের ৬ জন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতরা হলেন: ১. মাইন উদ্দিন (জামায়াত নেতা)
২. আবু তৈয়ব
৩. মো. তারেক (যুব বিভাগ নেতা)
৪. জুয়েল হোসেন
৫. রিয়াদ হোসেন
৬. রুবেল হোসেন
হাসপাতালে প্রার্থীদের ভিড়
সংঘর্ষের পর আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই তাদের দেখতে হাসপাতালে যান জেলা জামায়াতের আমীর ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ভিত্তি নেই বলে তারা মরিয়া হয়ে আক্রমণ করছে।
কিছুক্ষণ পরেই একই হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ওই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি আহতদের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনাটিকে 'অপ্রত্যাশিত' ও 'ভুল বুঝাবুঝি' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাতে স্থানীয় বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান খোকন দাবি করেছেন, বড় কোনো সংঘর্ষ হয়নি, কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, প্রচারণাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: