ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও এক বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে একাধিক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকদের সঙ্গে মোর্শেদ আলমের অনুসারীরা জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরপর সন্ধ্যার পর ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং তার এক সমর্থকের অফিসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
আগুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের কারণে ভালুকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে তার ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, থেমে থেমে উত্তেজনা তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: