নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের চর বগুলা গ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙন এখন বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদীর ধার ঘেঁষে থাকা বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে জোয়ারের স্রোতে গ্রামের কাঁচা সড়ক ও বসতভিটা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবিতে বুধবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন গ্রামবাসী।
চর বগুলা গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে নদীর তীরে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে গ্রামটি নদীভাঙনের শিকার।
আগে ভাঙনের গতি ধীর থাকলেও সম্প্রতি তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নদীর মাঝখানে ডুবোচর জেগে ওঠায় পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বলে তাদের ধারণা।
নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বেড়িবাঁধের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এতে গ্রামের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ এবং একটি স্থানীয় বাজার মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
নদীর একেবারে কোলঘেঁষে অবস্থিত চর বগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনতলা ভবনে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, “বিদ্যালয়ে বসেই আমরা নদীর গর্জন শুনতে পাই।
বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরে ভাঙন রোধে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
এখন মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে এবং তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, চর বগুলা গ্রামের পশ্চিম অংশে নদীভাঙন অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্ষার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকাটি পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান তিনি
এসআর
মন্তব্য করুন: