ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া হত্যার ঘটনাকে ঘিরে একাধিক বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ধরমন্ডল এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার ও কুতুবউদ্দিনপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত জিতু মেম্বারকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত খলিল মিয়া (৩৫), পিতা—মহরম কালাই মিয়া, দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মারা যান।
এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
খলিল মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার গোষ্ঠীর লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ কুতুবউদ্দিনের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলার সময় শাহীন মিয়া, আমির আলী, শিশু মিয়া, অলিল মিয়া, শাহ আলম, ছোট্ট মিয়া ও নশাই মিয়ার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং মালামাল লুট করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বাড়ির দেয়াল ও আঙিনাজুড়ে আগুনে পোড়া চিহ্ন রয়েছে।
অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, হামলাকারীরা তাদের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, “সবকিছু পুড়িয়ে দিয়ে আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: