আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলার দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি ) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন—কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
রেজাউল করিম খান চুন্নু কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি ২০০৬ সালে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।
২০০৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন। তবে চলতি ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
অন্যদিকে, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরবর্তীতে প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।
চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রথমে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
এ সময় তার বাবার প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগ দিলে, ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপরও শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত বিএনপি এই দুই নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করে।
এসআর
মন্তব্য করুন: