[email protected] রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

রামেক হাসপাতালে লাশবাহী গাড়ির দৌরাত্ম্য, সিন্ডিকেটের কবলে রোগীর স্বজন

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র।

রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন।

চিকিৎসাসেবার মান কিছুটা উন্নত হলেও লাশবাহী গাড়ির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রোগীর স্বজনদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে একাধিক লাশবাহী গাড়ি।

এর ফলে শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, এসব গাড়ির কারণে রাস্তা পরিষ্কার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে চালক ও সংশ্লিষ্টরা অনেক সময় মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নার্সিং শিক্ষার্থীরা জানান, গাড়িগুলো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় এলাকায় নোংরা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।


এ বিষয়ে রামেকের একাধিক চিকিৎসক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসক ডা. আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে রাখা এবং পরিবেশ নোংরা করে তোলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।


রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, কেউ মারা গেলে সিন্ডিকেটের লোকজন বাইরে থেকে আসা লাশবাহী গাড়ি হাসপাতাল এলাকায় ঢুকতে দেয় না।

এতে বাধ্য হয়ে তাদের নির্ধারিত গাড়িই নিতে হয়, যেখানে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়। শোকের মুহূর্তে এমন অতিরিক্ত খরচে পরিবারগুলো মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।


দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রামেক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর