রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে এ বছর পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে।
জমিতে জমিতে পেঁয়াজ তোলার কাজ চলছে, যেখানে শত শত শ্রমিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে চাষিদের মধ্যে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাঘার পদ্মা চরসংলগ্ন চকরাজাপুর বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পলাশিফতেপুর চরের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমান দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভ করা কঠিন। কারণ বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অনেক চাষিই ইতোমধ্যে পেঁয়াজ তুলেই বাজারে ছাড়ছেন।
একই এলাকার কৃষক বাবলু দেওয়ান জানান, ভালো দামের আশায় তিনি এ মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভের সম্ভাবনা কমে গেছে। তিনি বলেন, বেশি জমিতে চাষ করা অনেক কৃষকই এবার আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
চরাঞ্চলের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, এ এলাকায় সাধারণত ঢ্যামনা ও চারা—এই দুই ধরনের পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চারা পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং পদ্মার চরাঞ্চলেই এর আবাদ তুলনামূলক বেশি।
খায়েরহাট এলাকার কৃষক সুজন আলী বলেন, এক বছরের জন্য চার বিঘা জমি লিজ নিতে তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। পাশাপাশি বীজ, সার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ বাজারে সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘা উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নেই পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। তবে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে উৎপাদনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর, কিন্তু বাস্তবে চাষ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি।
এসআর
মন্তব্য করুন: