কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৫৭টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক।
এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক ও দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীর বহু পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুরে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ৭৪টি এবং দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীর পদ খালি রয়েছে ২৪টি বিদ্যালয়ে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ—দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে কর্মরত শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতা কিংবা বার্ষিক ছুটিতে থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
এতে অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে ডাবল শিফটে ক্লাস পরিচালনা করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য দেখানো হলেও বাস্তবে সংকট আরও বেশি।
কারণ যেসব সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের নিজ নিজ সহকারী শিক্ষকের পদগুলো কার্যত শূন্য হয়ে পড়ছে।
ফলে প্রকৃতপক্ষে সহকারী শিক্ষকের মোট শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ১৩১টিতে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ২৪টি বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাজিতপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম সায়েম খান বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই সঙ্গে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ৭৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছি।
এসআর
মন্তব্য করুন: