ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
আনুষ্ঠানিক প্রচারে কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও প্রার্থীরা সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
এই আসনে মূল প্রতিযোগিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হলেও স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর অবস্থান পুরো সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বিএনপির লক্ষ্য পুরোনো প্রভাব ফিরে পাওয়া
এক সময় জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান।
তিনি জানান, অতীতে এই আসনে বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংক ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের পাশে ছিলেন।
নির্বাচিত হলে জয়পুরহাটে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও বিনোদন পার্ক গড়ে তোলাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে উল্লেখ করেন।
সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে জামায়াত-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এবার এই আসনে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। দলটির প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ তরুণ ও নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক জয়পুরহাট গড়াই তাদের মূল অঙ্গীকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে দলীয় কর্মসূচি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস-
মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়া অতিক্রম করে নির্বাচনী মাঠে থাকা স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা নিজেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। এই সমর্থনই তাকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী করে তুলেছে।
অন্যান্য প্রার্থী ও ছোট দলগুলোর অবস্থান
এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
তৌফিকা দেওয়ান (বাসদ–মার্কসবাদী),
ওয়াজেদ পারভেজ (বাসদ),
সুলতান মো. শামছুজ্জামান (এবি পার্টি),
আনোয়ার হোসেন (খেলাফত মজলিস)।
তবে বড় দলগুলোর তুলনায় ছোট দলগুলোর প্রচারণা তেমন দৃশ্যমান নয় বলে মত দিচ্ছেন স্থানীয় ভোটাররা।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া জানান, প্রতিটি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে আচরণবিধি কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
কোনো ধরনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: