আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রক্রিয়া শেষে মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাচন অফিসগুলোতে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা।
সাতক্ষীরা-১ আসন:
এই আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মুজিবর রহমান প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বাকি পাঁচজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইয়ারুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইজ্জত উল্লাহ, জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান, বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম।
সাতক্ষীরা-২ আসন:
এ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে এক জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ মাতলুব হোসেন লিয়নের মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে তার দাখিল করা স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
সাতক্ষীরা-৩ আসন:
এই আসনে জমা পড়া ৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল আলমের দাখিল করা স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ভোটারের নাম থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ আসাফউদ্দৌলা খান ও আসলাম আল মেহেদী প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের তালিকা জমা না দেওয়ায় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওয়েজ কুরনীর মনোনয়নও বাতিল হয়। এ আসনে চারজন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ আসন:
এই আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর জিএম নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম মোস্তফা আল মামুন। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, ঋণ খেলাপি এবং প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জানান, সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, এর মধ্যে ২৯ জন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনকে চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: