[email protected] সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২

লাল শাপলার রঙে মোড়ানো জৈন্তাপুরের ডিবির হাওড়

জৈন্তাপুর উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১:৫৬ পিএম

জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওড় এলাকার জলাভূমিগুলো নতুন রূপে ধরা দিয়েছে

শীতের শুরুতেই সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওড় এলাকার জলাভূমিগুলো যেন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে।

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কেন্দ্রি, ডিবি, ইয়াম ও হরফকাটা বিল জুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অনন্য সৌন্দর্যে।


নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ জলাভূমির বুকে লাল শাপলার সমারোহ গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির ওপর ভেসে থাকা লাল শাপলার দৃশ্য মুগ্ধ করছে আগত দর্শনার্থীদের। আগাছা ও কচুরিপানার ফাঁক গলে ফুটে থাকা এসব শাপলাই এলাকাটিকে পরিচিত করেছে ‘লাল শাপলার বিল’ নামে।


সিলেট নগরী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই হাওড় এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন।

নৌকায় করে বিল ঘুরে দেখার সুযোগ থাকায় আগ্রহ আরও বেড়েছে। ভোর থেকেই মাঝি-মাল্লারা ব্যস্ত সময় পার করেন, বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে।


ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক পর্যটক জাহিদ মিয়া বলেন, শীতল সকালের আবহাওয়া, এক পাশে সবুজ পাহাড় আর অন্য পাশে লাল শাপলার বিল—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটি দারুণ। আবার আসার ইচ্ছাও রয়ে যায়।


অন্য এক দর্শনার্থী সালাউদ্দিনের মতে, একদিকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়, অন্যদিকে শাপলায় ভরা জলাভূমি—এই বৈচিত্র্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও পরিকল্পিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।


লাল শাপলা বিল সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবীরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন।


জৈন্তাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম রিয়াজ মাহমুদ বলেন, তামাবিল মহাসড়ক থেকে ডিবির হাওড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে পাকাকরণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে পর্যটকদের জন্য ওয়াশরুম, ক্যাফেটেরিয়া ও অন্যান্য সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, হাওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে ‘শাপলা বিল সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করছে।


জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে।


জানা গেছে, কেন্দ্রি, ডিবি, ইয়াম ও হরফকাটা—এই চারটি বিল মিলিয়ে প্রায় ৪০০ একর জলাভূমিতে লাল শাপলার বিস্তার। সাধারণত নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে এখানে শাপলার ফুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর