[email protected] সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

রংপুরে ঝলমলে রোদের আড়ালে মৃদু শৈতপ্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬ ১:০৫ পিএম

নতুন বছরের সকালে রংপুরে দেখা মিলেছে উজ্জ্বল রোদের। কুয়াশা ও

শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় জনজীবনে ফিরেছে স্বাভাবিক গতি। তবে এর আড়ালেই রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এসব এলাকায় কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নেমে আসে।
এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও নীলফামারীর ডিমলায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং রংপুর নগরীতে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় রংপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। শিশির ঝরার মতো পরিবেশ তৈরি হওয়ায় কৃষিকাজ, স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নিম্নআয়ের মানুষ ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
তিস্তা নদীর চরাঞ্চল, বাঁধসংলগ্ন এলাকা ও নগরের ছিন্নমূল মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা।
গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, নদীর পাশে বসবাস করায় ঘরে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। রাতে ও ভোরে শীত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঠান্ডার কারণে বাইরে কাজ করাও কষ্টকর।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনসার আলী জানান, ভোর ও সন্ধ্যার পর শীত এবং কুয়াশার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। অনেকেই সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। তবে সকালের রোদে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শীতের প্রভাবে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজার রহমান বাঁধন জানান, বর্তমানে শীতজনিত রোগ বিশেষ করে নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেশি দেখা যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে আতঙ্কের কিছু নেই।
তিনি বলেন, শিশুদের গরম কাপড় পরানো এবং শীত থেকে সুরক্ষা দেওয়া খুবই জরুরি। অসুস্থতা বাড়লে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, গত কয়েকদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, দিনের ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি বাড়লেও ঘন কুয়াশার কারণে কোথাও কোথাও বেশি শীত অনুভূত হতে পারে। জানুয়ারি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর