ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা।
সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে তারা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করে।
অবরোধের ফলে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত একই স্থানে বরিশাল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে নিহত শরিফ ওসমান হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় সোমবার বিকেল থেকে পুনরায় ঢাকা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয় বলে জানান ইনকিলাব মঞ্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আতিক আব্দুল্লাহ।
এর আগে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা নথুল্লাবাদ গোলচত্বরে জড়ো হয়। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আতিক আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি জিয়াউর রহমান নাঈম এবং বিএম কলেজ ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মুহসীন উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে গুলি করে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও এখনো হত্যাকারীরা ধরা পড়েনি। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এ সময় তারা মহাসড়কেই আসরের নামাজ আদায় করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: